শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

আহতরা ক্ষুব্ধ

 à¦‰à¦¨à§à¦¨à¦¤ চিকিৎসা ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা না পেয়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতরা। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান পঙ্গু হাসপাতালের সামনের সড়কে সারাদিন বিক্ষোভ করেন আহতরা। তাদের ভাষ্য ছিল-উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ও নূরজাহান বেগম এসে তাদের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না। পরে রাত আড়াইটার দিকে চার উপদেষ্টা গিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আন্দোলনকারীদের প্রত্যাশা ছিল, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এদিন সবার খোঁজ নেবেন। সমস্যা শুনে সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ খাওয়া-দাওয়ার মান নিয়েও অভিযোগ করেন। এছাড়া তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা ও ভালো চিকিৎসা দিতে বিদেশে নেওয়ার আবেদন জানালেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন। তবে পরে জানা যায়, তাদের à§« জনকে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। 

জুলাই আন্দোলনে যারা আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন এদিন তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা স্পষ্ট। চিকিৎসাখাতে দীর্ঘদিনের যে অনিয়ম-অবহেলা বিদ্যমান, আহতরা চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। কাজেই তারা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য উপদেষ্টাকে চাইবেন, এটা স্বাভাবিক। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এসব অকুতোভয় সূর্যসন্তানের কাছে প্রত্যাশিত হলেও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ব্যস্ততার কারণে সবার খোঁজখবর নিতে পারেননি। দেরিতে হলেও উপদেষ্টাদের আশ্বাসে এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে, এটি স্বস্তিদায়ক।

অন্ধকার ভেদ করে যারা দেশ ও জাতিকে নতুন আলোর দিশা দেখিয়েছেন, তাদের সবার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানে অন্তর্বর্তী সরকার জোরালো পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হবে। ভুলে গেলে চলবে না, একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, কার্যক্রম ও বৈশিষ্ট্যের ওপর সেদেশের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে। কারণ, একটি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জনগোষ্ঠীই পারে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত প্রত্যেকের সুচিকিৎসা এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা প্রদানে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ